
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা গেল বেশ নাটকীয়তায় ভরা। প্রথম সেশনটা ভাগাভাগি করেছে দুই দল, দ্বিতীয় সেশনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর তৃতীয় সেশনে চললো আলো-আঁধারীর খেলা। আলোকস্বল্পতার কারণে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হলেও তার স্থায়ীত্ব হয়েছে মোটে ৪ ওভার। এরপর আবারও আলোকস্বল্পতার কারণে বন্ধ হয় খেলা। তবে আর শুরু হয়নি। প্রায় আধাঘন্টা অপেক্ষার পর দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়।
আজ বুধবার (২৮ অক্টেবার) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের খেলা শেষে ৭৪ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ২১৯ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন সাদমান ইসলাম আর ২৮ বলে ১০ রানে লিটন দাস।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আর সাদমান ইসলাম। তবে তামিম বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন না। সপ্তম ওভারে জেইডন সিলসের করা অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়েছিলেন তামিম। কিন্তু বল তার ব্যাট ছুঁয়ে গিয়ে জমা হয় স্লিপে থাকা জাস্টিন গ্রেভসের হাতে।
শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয় দ্বিতীয় উইকেট আশা দেখাচ্ছিলেন মুমিনুল হক আর সাদমান। দুজন বেশ ভালোই ব্যাটিংও করছিলেন। উইকেটে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন তিন নম্বরে নামা মুমিনুল। তাদের এই জুটি থেকে এসেছিল ৫৯ রান। এরপরই হঠাৎ কি যেন হলো মুমিনুলের অপ্রয়োজনীয় শট খেলে নিজের উইকেট উপহার দিয়ে আসলেন তিনি। জোরেমি ওয়ারিকানের বলে ক্যাচ দেন মিডঅফে।
শতরান পার হওয়ার আগেই দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরতে মাঠে নেমেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমানকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম সেশনের বাকি সময় কাটিয়ে দিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যান। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে হতাশ করেন শান্তও। উইকেটে থিতু হয়ে তিনিও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৬তম ওভারে ক্যারিবীয়ান স্পিনার ওয়ারিকানের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে পারেননি। বল গিয় আঘাত করে প্যাডে। প্রথমে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪২ বলে ১৯ রান করে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে ফেরেন শান্ত।
তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে উদ্ধারে নামেন একপ্রান্ত আগলে রাখা সাদমান আর তাওহিদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তারা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে নির্বিঘ্নে দ্বিতীয় সেশন কাটিয়ে দেন তারা। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। তবে তৃতীয় সেশনের শুরুতেই কপাল পুড়ে বাংলাদেশের। চোট নিয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় দারুণ খেলতে থাকা হৃদয়কে।
ইনিংসের ৬৬তম ওভারে হঠাৎই মাঠে বসে পড়েন হৃদয়। ফিজিও এসে বেশ খানিকটা সময় চিকিৎসা করলেও আর ব্যাটিং করতে পারেননি তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন হৃদয়।
এরপর মাঠে নামেন লিটন দাস। কিন্তু লিটন-সাদমান জুটি অল্প কয়েক ওভার ব্যাটিং করার পরই আলোকস্বল্পতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। প্রায় ৫০ মিনিট বন্ধ থাকে ম্যাচ। এরপর বেলা ৪টা মিনিটে শুরু হয় দিনের বাকি খেলা। তবে সেটিও বেশি সময় লম্বা হয়নি। ৪ ওভার পরই দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়ররা।
পুরো দিনে একপ্রান্তে ফিরে গেছেন তিন ব্যাটার। তাওহিদ হৃদয় ফিরেছেন চোট নিয়ে। তবে অন্যপ্রান্তে অবিচল থেকেছেন সাদমান ইসলাম। বাংলাদেশের ইনিংসের সূচনা করতে নেমেছিলেন তিনি। দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে আছেন তিনি। সেঞ্চুরির একদম কাছে গিয়েও অপেক্ষা বাড়িয়ে শেষ করেছেন সাদমান। ৯৯ রানে অপরাজিত তিনি।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই সেঞ্চুরির রাঙানোর পাশাপাশি সেটব্যাটার হিসেবে ইনিংসটাকে আরও লম্বা করতে হবে তার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
বাংলাদেশ : ৭৪ ওভারে ২১৩/৩ (তামিম ৭, মুমিনুল ২৮, শান্ত ১৯, হৃদয় ৪২ (রিটায়ার্ড হার্ট), সাদমান ৯৯*, লিটন ১০*; সিলস ৮-৩-১৪-১, জোসেফ ১০-১-২৮-০, রোস্টন ১৩-১-৫৩-০, গ্রেভস ১০-৪-৩০-০, বিশপ ১৯-২-৫০-০, ওয়ারিকান ১৪-১-৩৩-২)