News update
  • নিম্নচাপ: কলাপাড়া উপকূলে বৃষ্টিপাত, পায়রা বন্দরে ০৩ নম্বর সতর্ক সংকেত     |     
  • Indices edge up on DSE, CSE but turnover declines on Monday     |     
  • Parliament to resume session on Tuesday after 7-day recess     |     
  • Inflation Falls to 9.16% in June as Food Prices Ease     |     

ডাস্টবিনে ময়লা ফেললেই মিলবে টাকা

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্যাম্পাস 2026-05-18, 10:09pm

img_20260518_220528-f59287de4ac8acdb44cc502ab4a58b161779120562.jpg




ডাস্টবিনে প্লাস্টিকের বোতল কিংবা বর্জ্য ফেললেই মুঠোফোনের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে টাকা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এমনই এক চমকপ্রদ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে দুই স্কুলছাত্র ইহান ও তূর্য। তারা রাজধানীর নির্ঝর বিআইসিএস ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। খুদে এই দুই বিজ্ঞানীর তৈরি ‘স্মার্ট বিন’ এবার নজর কেড়েছে রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায়।

‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মিরপুরের নৌবাহিনী কলেজ ঢাকায় গত ১৬ ও ১৭ মে অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনব্যাপী ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা এবং সহশিক্ষা প্রতিযোগিতা। মেলায় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

উদ্যোক্তা শিক্ষার্থীরা জানায়, এই স্মার্ট বিন ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। ডাস্টবিনে একটি কিউআর কোড দেওয়া থাকবে। ময়লা ফেলার পর কোডটি স্ক্যান করলেই ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে। প্রতি এক কেজি ময়লা ফেলার বিপরীতে মিলবে ১০ টাকা।

সাধারণ ডাস্টবিনের তুলনায় এতে বিভিন্ন সেন্সর, অটোমেশন ও ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। হাত কাছে নিলেই সেন্সরের মাধ্যমে এর ঢাকনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়, ফলে স্পর্শ ছাড়াই ময়লা ফেলা সম্ভব। শুধু তাই নয়, এই বিন প্লাস্টিক, কাগজ বা জৈব বর্জ্য আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। এমনকি বিনটি পূর্ণ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ বা সিস্টেমে নোটিফিকেশন চলে যায়, যাতে দ্রুত বর্জ্য পরিষ্কার করা যায়।

মেলায় নিজেদের উদ্ভাবন নিয়ে শিক্ষার্থী ইহান বলেন, আমাদের চারপাশের প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানুষ যাতে স্বেচ্ছায় ডাস্টবিনে ময়লা ফেলে, সেই আগ্রহ তৈরি করতেই আমরা এই আর্থিক প্রণোদনার আইডিয়াটি যুক্ত করেছি। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটিকে বড় পরিসরে তৈরি করা সম্ভব।

আরেক শিক্ষার্থী তূর্য বলেন, স্মার্ট বিনের সেন্সর প্রযুক্তির কারণে কেউ ময়লা নিয়ে কাছে আসলেই এটি নিজে থেকে খুলে যাবে। নোংরা ডাস্টবিনে হাত দেওয়ার ভয় এতে নেই। আমরা চাই আমাদের এই প্রযুক্তি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করুক।

দুই দিনব্যাপী এই মেলায় শুধু স্মার্ট বিন নয়, রোবটসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞান প্রদর্শনীর পাশাপাশি এতে ছিল গণিত অলিম্পিয়াড, কুইজ, বিতর্ক ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।

এর আগে মেলার উদ্বোধন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক নবাব।

নৌবাহিনী কলেজ ঢাকার অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন এম ইসমাইল মজুমদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও গবেষণামুখী করে তুলতেই এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মেলার সমাপনী দিনে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর ঢাকা এরিয়া কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফার্মাসির অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান শরমিন্দ নীলোৎপল।

অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোৎপল তার বক্তব্যে বলেন, এই প্রজন্মের শিশু-কিশোররা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেওয়া গেলে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ভেতরের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম তৈরি করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।