News update
  • Trump says US aims to destroy Iran's military, topple government     |     
  • Stock indices rally at DSE, CSE despite shrinking turnover     |     
  • Tehran hits back across region after US and Israel attack Iran     |     
  • African Union calls for restraint in Middle East     |     
  • Iran-Israel Tensions Stoke Energy Risks for Bangladesh     |     

রাশিয়ার পর ইরানের পক্ষ নিয়ে এবার চীনের প্রতিক্রিয়া

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কুটনীতি 2026-02-28, 11:22pm

rtretwerew-e101bce23df7dc603a4a5a54f69311351772299360.jpg




পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জেরে হঠাৎই ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যৌথ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ।

ইরানে চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পর এবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্বকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত। বেইজিং সব পক্ষকে উত্তেজনা এড়াতে এবং পুনরায় সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছে।

এর আগে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হঠকারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানায় রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, পরিস্থিতিকে দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরিয়ে নিতে হবে। এই সামরিক আগ্রাসন পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত এসব ‘দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের’ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা। রাশিয়া আগের মতোই আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক সম্মান এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সেইসঙ্গে ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযান চালানোর আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা ছিল কেবল বিষয়টিকে আড়াল করার জন্য। 

মেদভেদেভ বলেন, ‘শান্তির দূত আবারও তার আসল চেহারা দেখিয়েছে। ইরানের সঙ্গে সব আলোচনা ছিল একটি আড়াল মাত্র। এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ ছিল না। বাস্তবে কেউ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়নি।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এই হামলার পর চুপ করে বসে নেই ইরান। তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়া শুরু করেছে তারাও। ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো আঘাত হানছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।  

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পাল্টা হামলার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইডিএফের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঢেউ আমাদের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী এই হুমকিগুলো প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে। 

আইডিএফ আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়, তাই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে জনগণকে অবিলম্বে আইডিএফের সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে এখন মুহুর্মুহু সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের এক বিবৃতিতে হুঙ্কার ছেড়ে বলেছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।

এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর ‘‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’’ পরিণত হবে। 

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ‌‌ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব স্থাপনাও আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত।