News update
  • Govt Earns Public Trust in First Six Months: Mahdi Amin     |     
  • Myanmar Recognises 309,000 Rohingyas as Former Rakhine Residents     |     
  • Bangladesh Unaware of Hasina’s Status in India: Chief Prosecutor     |     
  • Rooppur to Supply 300MW to National Grid in September     |     
  • Iran Announces $30,000 Reward for Capturing US Troops     |     

অভিযানে জব্দ দুই কোটি টাকার মালামাল, মামলায় দেখানো হলো ৩ লাখ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক অপরাধ 2026-08-17, 9:40am

img_20260817_094021-aa70878ac75648c6b5c8a55801b960571786938051.jpg




কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নকল সিগারেট তৈরির একটি কারখানায় অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মালামাল জব্দের কথা জানিয়েছিল প্রশাসন। তবে ওই ঘটনায় থানায় করা মামলার এজাহারে জব্দ করা মালামালের মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র প্রায় তিন লাখ টাকা। একই অভিযানে জব্দের হিসাব ও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা মালামালের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ টাকার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের গরুর খামারের ভেতরের একটি গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দৌলতপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানিয়েছিলেন, গোডাউন থেকে বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট এবং সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলেও জানানো হয়।

তবে দৌলতপুর থানায় করা মামলার এজাহারে জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে ২৫ হাজার শলাকা সিগারেট এবং ২৫ বস্তা সিগারেট তৈরির তামাক। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা।

এতে অভিযানের সময় জব্দের কথা বলা প্রায় ২০ লাখ শলাকা সিগারেটের সঙ্গে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ২৫ হাজার শলাকার বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। একইভাবে অভিযানে জব্দ করা অন্যান্য সরঞ্জামের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই জব্দ করা মালামালের পরিমাণ ও আনুমানিক মূল্য জানানো হয়েছিল।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, কারখানায় নকল সিগারেট তৈরির যে মেশিন রয়েছে, শুধু সেটির দামই প্রায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি। মেশিনটি তালাবদ্ধ করে রাখা হলেও জব্দ তালিকায় সেটি উল্লেখ করা হয়নি। মেশিনটি বর্তমানে কার হেফাজতে রয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

গোডাউনের মালিক ও মামলার প্রধান আসামি হাবিব মাস্টার বলেন, জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে তিনি মাসিক ৪০ হাজার টাকায় গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এর আগেও র‍্যাব ও কাস্টমসের অভিযানে গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছিল। পরে সেটি আবার চালু করা হয়।

এর আগে গত ৯ মে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই স্থানে অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন ও প্রায় এক লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। পরে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিলগালা করার কিছুদিন পরই কারখানাটি আবার চালু করা হয়। একই স্থানে পুনরায় নকল সিগারেট উৎপাদনের অভিযোগ ওঠায় আগের অভিযানের পর কারখানাটি কীভাবে আবার চালু হলো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।