মনে রাখতে হবে, হঠাৎ করেই সরিষার তেল বেশি পরিমাণে খাওয়া শুরু করবেন না। এর স্বাস্থ্য উপকারিতা যেমন আছে- আবার প্রতিক্রিয়াও আছে। ছবি: সংগৃহীত
সরিষা গাছের বীজ থেকে তৈরি হয় সরিষা তেল। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এ তেলের নানা উপকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। শুধু প্রাচীনকালেই নয় বর্তমান চিকিৎসাশাস্ত্রও বলছে রান্নায় সরিষা তেল ব্যবহারের নানা উপকারী গুণের কথা।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, সরিষার তেলে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ওমেগা, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ। এসব উপাদান শরীরের জন্য নানা উপকারী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও মার্কিন স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসুন এক নজরে জেনে নিই, সরিষা তেলের কিছু উপকারী গুণ সম্পর্কে-
১। ঔষধি গুণ সম্পন্ন সরিষা তেল মনোস্যাচুরেটেড ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ। এই তেল কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করে যা হার্টের জন্য স্বাস্থ্যকর।
২। রান্নায় নিয়মিত সরিষা তেলের ব্যবহার কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত সংবহন ও রেচনতন্ত্র শক্তিশালী করে।
৩। সরিষার তেল খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে।
৪। সরিষার তেলে ওমেগা -থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, আলফা লিনোলেনিক এসিড এবং সেলেনিয়ামের মতো যৌগ রয়েছে। যা শরীরের প্রদাহ কমাতে পারে।
৫। তেলটি ভিটামিন ই সমৃদ্ধ হওয়ায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুল ও ত্বকের জৌলুস ঠিক রাখে। ত্বকের বলিরেখা, পোড়াভাব, মাথার খুশকি দূর করতে পারে। মাথার ত্বক সুস্থ রাখতেও কাজ করে সরিষা তেল।
৬। সরিষার তেল মস্তিষ্কের জন্য ভীষণ উপকারী। বিশেষ করে অবসাদ কাটাতে, স্মৃতিশক্তি আর মনঃসংযোগ বাড়াতে এ তেল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭। সরিষা তেলের অ্যালাইল আইসোথিওসায়ানেট উপাদান ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাই ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তুলতেও রান্নায় সরিষা তেল ব্যবহার উপকারী।
৮। এই তেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকায় তা নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দিতে সাহায্য করতে পারে। শরীরের কোষ সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ঠান্ডাজনিত সমস্যায় উপকার মেলে।