গাজার রাফাহ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ এবং তারপর ইসরাইলি ড্রোনের বোমাবর্ষণে নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন ফিলিস্তিনি নারী নুর ইসা মেকাওয়ি। সেখানকার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে ইসা মেকাওয়ি বলেছেন, ‘আমাদের ওপর এত ক্ষেপণাস্ত্র এবং কোয়াডকপ্টার হামলা দেখে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি সবখানে অনেক নিরীহ শহীদ দেখেছি। আরও অনেককে তাদের গাড়িতেই হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আরব দেশগুলো কোথায়? তারা আমাদের হতাশ করেছে। শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে এবং নারীদের শিরশ্ছেদ করা হচ্ছে।
এদিকে গাজায় আবারও সেহরির সময় হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
আল জাজিরা জানায়, গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় (রোববার দিবাগত রাতে) চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার কাছে হামলার বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী মাহা আলারকান।
তিনি বলেন, ঠিক ভোর ৪টা ০৫ মিনিটে ইসরাইলি বাহিনী ওই বাড়িটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। হঠাৎ করেই সর্বত্র ধুলো, ধ্বংসস্তূপ এখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, আর সবাই চিৎকার করছিল। আহতদের এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করার চেষ্টা করছিলেন স্থানীয়রা। তারা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
মাহা আলারকান আরও বলেন, ‘আমরা সবাই এখানে নিরীহ মানুষ এবং আমরা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই। ইসরাইলিরা কোনো সতর্কতা ছাড়াই আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে উপত্যকাটিতে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ৮২ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০৮ জন।
সূত্র: আল জাজিরা