
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় আহত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে ‘অচেতন অবস্থায়’ চিকিৎসাধীন আছেন এবং চলমান যুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষের ‘কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তিনি অন্তর্ভুক্ত নন’ বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
একটি কূটনৈতিক নথির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, ৫৬ বছর বয়সি এই ধর্মীয় নেতা ‘গুরুতর অসুস্থ’ অবস্থায় ইরানের পবিত্র শহর কোমে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাজধানী তেহরান থেকে ৮৭ মাইল আ প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরটি শিয়া ইসলামে অত্যন্ত পবিত্র এবং ইরানের ধর্মীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিত। প্রথমবারের মতো তার অবস্থান প্রকাশ্যে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, ‘মোজতবা খামেনি কোমে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তিনি এখন সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারছেন না।’ এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই জানত, তবে এতদিন তা প্রকাশ করা হয়নি। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির লাশ এই কোম শহরে দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন ও ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, কোম শহরে ‘একাধিক কবরের’ জন্য একটি বিশাল সমাধিসৌধ নির্মাণের ‘ভিত্তি স্থাপনের’ প্রস্তুতি চলছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার পাশে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও দাফন করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মোজতবা খামেনিকেও ওই সমাধিসৌধে দাফন করা হতে পারে, যা থেকে বোঝা যায় যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রতিবেদনে করা এই দাবিগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই কোনো বিবৃতি দেয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। হামলার প্রথম দিনই সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।
ইরান নিশ্চিত করেছে যে, সেই একই বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। শুধু তাই নয়, হামলায় তার মা, স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং এক ছেলে নিহত হন। এর সপ্তাহ খানেক পর মোজতবা খামেনি সবোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
তবে এরপর থেকে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বা তার কণ্ঠ শোনা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার নামে বেশ কয়েকটি বিবৃতি পাঠ করা হয়েছে। কিন্তু তার কণ্ঠস্বরের কোনো রেকর্ডিং না থাকায় তিনি যে গুরুতর অসুস্থ, এমন গুঞ্জন আরও জোরালো হচ্ছে।
গত সোমবার (৬ এপ্রিল) তেহরান মোজতবা খামেনির একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে তাকে একটি যুদ্ধকক্ষে প্রবেশ করতে এবং ডিমোনায় অবস্থিত ইসরাইলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়।
যদিও ইরানের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে নতুন সর্বোচ্চ নেতাই দেশের ‘দায়িত্বে’ রয়েছেন, তবে মার্কিন প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি একটি হাসপাতালে কোমায় চিকিৎসাধীন আছেন, আবার অন্য কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তার পা ভেঙেছে এবং মুখে আঘাত লেগেছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি