
টানা ৪ দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে এক দফা কমেছিল রুপার দাম। তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে এই ধাতুর দাম। এবার ভরিতে ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। যা দেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ দাম।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ দুপুর সোয়া ১২টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে রুপার মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, রুপার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫২৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৯০৭ টাকা। যা কার্যকর হয়েছিল আজ ২৩ জানুয়ারি থেকে।
এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ৯ দফা সমন্বয় করা হলো রুপার দাম। যেখানে দাম ৬ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৩ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
এদিকে, ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে একভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ১২ বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।