
ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে লিওনেল মেসি। ছবি : এএফপি
শেষ বাঁশি বাজতেই যেন থমকে গেল সময়। গ্যালারির এক প্রান্তে স্পেনের উল্লাস, অন্য প্রান্তে নিস্তব্ধতা। সেই নীরবতার মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। কয়েক মুহূর্ত আগেও যিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার শেষ আশা, শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হয়ে গেলেন ভেঙে যাওয়া এক স্বপ্নের প্রতীক। চোখের জল আর আটকে রাখতে পারলেন না আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সুশৃঙ্খল ফুটবলের সামনে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারেনি তারা। পুরো ১২০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের পরাজয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
শেষ বাঁশি বাজার পরও সতীর্থদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মেসি। কিন্তু নিজের ভেতরের ঝড় আর সামলাতে পারেননি। কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর অশ্রু গড়িয়ে পড়ল তার চোখ বেয়ে। গ্যালারিতে তখন স্পেনের উৎসব, আর মাঠের মাঝখানে নীরবে ভেঙে পড়ছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
এই টুর্নামেন্টে মেসি শুধু অধিনায়ক ছিলেন না, ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। গোল করেছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন, কঠিন সময়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু ফুটবল সব সময় রূপকথার সমাপ্তি লেখে না। ফাইনালের রাতে সেই নির্মম সত্যই সামনে এল। শিরোপার সঙ্গে হাতছাড়া হলো ব্যক্তিগত অর্জনের মঞ্চও। বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই রইল। জেতা হলো না গোল্ডেন বুট। টুর্নামেন্ট সেরার গোল্ডেন বলও উঠল না তার হাতে।
ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে, ব্যক্তিগত কোনো পুরস্কারও জোটেনি। কিন্তু শেষ বাঁশির পর মেসির চোখের জল যেন মনে করিয়ে দিল, ফুটবল শুধু জয় পরাজয়ের খেলা নয়, এটি আবেগেরও নাম। সেই অশ্রুসিক্ত মুহূর্তই হয়তো এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় ছবিগুলোর একটি হয়ে থাকবে, যা দীর্ঘদিন ধরে নাড়া দেবে ফুটবলপ্রেমীদের।