News update
  • Argentina, Spain divided over loyalties ahead of WC final     |     
  • Feni admin advises students against staying out after Maghreb     |     
  • Messi is 'pure history', says Scaloni     |     
  • PM Tariques’s visit takes relations with China to highest peak     |     

গোল উৎসবের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান ইংল্যান্ডের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ফুটবল 2026-07-19, 8:55am

20260719_045859-d969b9187f567ef1b4eeaaeaac8551b21784429788.jpg




ম্যাচের আগে দুই দলের কোচই বলেছিলেন– এ ম্যাচ খেলতে চান না তারা। কিন্তু মাঠের খেলায় দেখা মিলল ভিন্ন কিছুর। আসরের সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচ উপহার দিল ইংল্যান্ড আর ফ্রান্স। প্রথমার্ধে একক আধিপত্য দেখাল ইংল্যান্ড। এগিয়ে গেল ৪-০ গোলে। কিন্তু বিরতির পর দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ইংলিশদের ওপর চড়াও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফিরল ফ্রান্স। বসে রইল না ইংল্যান্ডও। শেষদিকে জাল খুঁজে নিয়ে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল থ্রি-লায়ন্সরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড আর ফ্রান্স। গোল উৎসব শেষে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই ফরাসি রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডেকলান রাইস। শুরুতেই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ফ্রান্স।

গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ১২তম মিনিটে বুকায়ো সাকা বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। তবে ১৯তম মিনিটে ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত ক্রসে কোনো বাধা ছাড়াই লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে জড়ান তিনি। এই গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে ফ্রান্স ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ পায়। মাইকেল অলিসের পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোরালো শট নিলেও অসাধারণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন।

তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকেও ফ্রান্সের রক্ষণে একের পর এক আঘাত হানে ইংল্যান্ড। ৩৭তম মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে বুকায়ো সাকা গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাকা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য ম্যাচে ফেরার লড়াই শুরু করে ফ্রান্স। ৪৮তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের নবম গোল পূর্ণ করে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জায়গা করে নেন ফরাসি তারকা।

এরপর ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান আরও কমায় ফ্রান্স। ইংল্যান্ডের এজে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণ তৈরি করলেও গোল করতে পারেননি। এরপর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২।

এরপর ম্যাচে আরও নাটকীয়তা যোগ করেন এমবাপ্পে। ৬৭তম মিনিটে অলিসের দুর্দান্ত পাস থেকে বাম পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফ্রান্স অধিনায়ক। ফলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৪-৩। একসময় ৪-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স তখন সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

তবে ৮৬তম মিনিটে ফ্রান্সকে বড় ধাক্কা দেন বুকায়ো সাকা। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। বেলিংহ্যামকে পেছনে ফেলে পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাকা প্রমাণ করেন নিজের আত্মবিশ্বাস। তার গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ৫-৩ ব্যবধানে।

নির্ধারিত সময়ের পরও ম্যাচের উত্তেজনা কমেনি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ওসমানে দেম্বেলে গোল করে ফ্রান্সের আশা আবারও জাগিয়ে তুলেন। উপামেকানোর পাস ধরে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দারুণ শটে বল জালে পাঠান তিনি। ব্যবধান কমে হয় ৫-৪।

তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন জুড বেলিংহ্যাম। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে দারুণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বল জালে পাঠান তিনি। বিশ্বকাপে এটি বেলিংহ্যামের সপ্তম গোল।

শেষ বাঁশি বাজার পর ৬-৪ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, ১০ গোলের এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় ফ্রান্স। গোল উৎসবের এই ম্যাচ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে থাকবে।