News update
  • Tree logging in Bangladesh has fallen in last two years: Study     |     
  • Unsafe Food Kills 1.5 Million Yearly, WHO Warns Report     |     
  • Masud Khan Appointed New BSEC Chairman in Shake-up     |     
  • Verdict in Ramisa rape-murder case on June 7      |     

আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর বার্ষিক বনভোজন প্রসঙ্গ

নজরুল ইসলাম প্রবাস 2025-08-08, 12:43am

nazrul-islam-enayetpur-d535aa1c26118458cd6080737a9f5aca1754592184.jpg

Nazrul Islam



শনিবার জুলাই ২৬,২০২৫ বৃষ্টি হওয়াতে রবিবার ২৭ জুলাই দিনটি ছিল রৌদ্র চমকানো অতি চমৎকার এবং হালকা ঠান্ডা ও আরামদায়ক আবহাওয়া। আজ আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর এলামনাই এসোসিয়েশন এর বাৎসরিক বনভোজন। মঈনুদ্দিন চিশতী প্রকৌশলী, পূর্ব থেকে আমাকে দাওয়াত দিয়ে বলে রেখেছে ফুফা আপনাকে বনভোজনে নিয়ে যাবো। সে মতে যাওয়ার জন্য সকাল থেকেই তৈরী হয়েছিলাম। চিশতী ও ওর এক বন্ধু সকাল ৯টার দিকে আমাকে নিয়ে রওয়ানা হয়। ভোরে নাস্তা করে বাসা থেকে বের হয়েছি ;তথাপি চিশতী “টিম হর্টন্স” থেকে আমাদের সবার জন্য কফি নিয়েছে; আমরা সরাসরি রওয়ানা হয়েছি।

নর্থ ইয়র্ক(টরন্টো) বাসা থেকে Oshwa (অসওয়া ) পিকনিক স্পটের দূরত্ব ৫০-৫৫ কিলোমিটার ; ছুটির দিন হাইওয়ে- ৪০১ ফাঁকা থাকায় বেশি সময় লাগে নি। আমরা তিনজন নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই গন্তব্য স্থানে পৌঁছে গেছি। বনভোজনের স্থানটি লেক অন্টারিও র সাথে এবং চমৎকার দৃশ্য, এখনো লোকজন আসা শুরু করে নি, মনোরম আবহাওয়া ও “লেক অন্টারিওর” মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতেই - দুই-চার জন করে লোক আসতে শুরু করেছে।

কানাডার স্কুল,কলেজ, ইউনিভার্সিটি গ্রীষ্মের ছুটি চলছে- টরন্টো ও আশেপাশের শহর গুলিতে অসংখ্য পিকনিক স্পট, প্রচন্ড ভিড় এবং এ সময় লোকে লোকারণ্য থাকে। বনভোজন প্রেমিক দলে দলে নিকটস্থ ও দূরবর্তী স্থানে গিয়ে পুরানো বন্ধু ও পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ উপভোগ করে। এমন কি অনেকে এ সময় কয়েক শত কিলোমিটার দূরে গাড়ি নিয়ে লেকের পাড়ে কটেজ ভাড়া করে রাতে অবস্থান করে এবং লেক থেকে মাছ ধরে আমোদে ব্যস্ত থাকে।

হালকা স্ন্যাকস ও চা কফি আপ্যায়ন : দিনের এগারো টার দিকে হালকা স্ন্যাকস দিয়ে আপ্যায়ন শুরু হয়। এ সময় হালকা গান ও সঙ্গে চা কফি ও বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। আসোয়া, টরন্টো, নর্থ ইয়র্ক, ব্রাম্পটন ও বিভিন্ন শহরে থেকে আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলীদের পরিবার সহ প্রায় ১০০ বা তার ও অধিক লোক এসেছে, সবাই ছোট ছোট গ্রুপে লেকের পাড়ে বা এখানে সেখানে বসে আড্ডা,কেউবা লেকের সৌন্দর্য্য উপভোগ করে সময় অতিবাহিত করে, যে যেভাবে পারে আনন্দে মেতে উঠেছে। পুরা এলাকাতে বিভিন্ন দেশীয় অনেক পিকনিক স্পট এবং গাড়ি পার্কিং এলাকাতে তিল ধরণের স্থান খালি ছিল না। আমাদের পাশের স্পটে আফগানিস্তানের লোকজন পরিবার নিয়ে এসেছে যাদের দু একজনের সঙ্গে আমার ক্ষানিক আলাপ হয়েছে(কারণ আমি কিছুটা ফাস্টু ভাষা জানি)। প্রতিটি স্পট বিভিন্ন দেশীয় লোক তাদের দেশীয় খাবার নিয়ে যে যেভাবে সম্ভব উপভোগ করছে।আমি দেশের নিজের এলাকার যথা মতলব এবং ময়নামতি (চান্দিনা) দুই জন খুঁজে বের করে দেশীয় গল্পে কিছু সময় কাটিয়েছি। 

লাঞ্চ পরিবেশন: দিনের দুইটা বাজে লাঞ্চ এর পালা শুরু হয়। প্রচুর খাওয়া অর্ডার দিয়ে আনা হয়েছে; প্রথমে শিশু ও মহিলাদের খাওয়া দেয়া শুরু এবং পর পর পুরুষদের খাওয়া । অত্যন্ত চমৎকার সুস্বাধু খাওয়া - পোলাউ, বড়া, মুরগি , গরু, ডাল,সালাদ যার যা ,যতবার খুশি নিয়ে খাও এবং সঙ্গে পানির বোতল, সফ্ট ড্রিংক -কোক, কানাডা ড্রাই ; একদিকে খাওয়া ও মৃদু সুরে বাংলা এবং হিন্দি গান,পরিবেশ মিষ্টি মধুর করে তুলেছে। সর্বশেষ মিষ্টি , চা ,কফি চলছে। কিছু সময় পর পর চিশতী এবং ওর বন্ধুরা এসে খোঁজখবর নিচ্ছে- কিছু প্রয়োজন আছে কি ? এত সুন্দর পরিবেশ কি করে যেন দ্রুত শেষ হয়ে গেলো।

ক্রীড়া পর্ব : দিনের তিনটার দিকে ক্রীড়া পর্ব -মেয়েদের জন্য পিলো চেয়ার এবং পুরুষ ও ছোট বাচ্চাদের জন্য নানাহ খেলার ব্যবস্থা ও সর্বশেষ আকর্ষণীয় লটারি -টরন্টো থেকে ঢাকা ওয়ান ওয়ে টিকেট- কে সে ভাগ্যবান অপেক্ষার পালা ।

পুরস্কার বিতরণী: ৬টার দিকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু এবং বিজয়ীদের জন্য অতীব সুন্দর খেলনা ও মূল্যবান উপহার।

সব শেষে ছোট বাচ্চাদের দিয়ে টোকেন উঠিয়ে ভাগ্যবান টরন্টো -ঢাকা ওয়ান ওয়ে টিকেট নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চারিদিকে আনন্দ,শোরগোল ও শীষ দেয়া শুরু হয় এবং সব শেষে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে দিনের ইতি টানা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা: দুইজন রিয়েল এস্টেট ও অন্যান্য বা বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে এই এসোসিয়েশনকে সাহায্য,সমর্থন ও সার্থক করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন । এ ছাড়া আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদলায় এর পুরানো ছাত্রদের আন্তরিকতার জন্য এই মহতী অনুষ্ঠান বেশ স্বরণীয় হয়ে থাকবে। 

বিশেষ আনন্দ : প্রায় প্রতিটি পরিবারের সঙ্গেই আলাপ চারিতার সুযোগ পেয়ে বেশ ভালো সময় অতিবাহিত করেছি। আমার জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় ছিল একটা ছোট্ট দুই বৎসরের ফুটফুটে বাচ্চা মেয়ে যাকে নিয়ে আমি অনেক সময় তার পছন্দের খেলা সাদা ও লাল রঙের প্লাস্টিক কাপ টেবিলে বসানো এবং তার পছন্দের খেলা নিয়ে বিশেষ আনন্দ করা । এই ছোট্ট বাচ্চা শিশুটির সঙ্গে তার পছন্দের খেলায় অংশ নিতে পেরে বেশ আনন্দ  পেয়েছি।

উপসংহার : সব শেষে মঈনুদ্দিন চিশতীকে অশেষ ধন্যবাদ , সে এই অনুষ্ঠানে ছুটাছুটি এবং প্রতিটি কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।বিকেল ৭টার দিকে এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ছেড়ে চলে আসলেও তা স্বরণে থাকবে। বিশেষভাবে পুরা পিকনিক অনুষ্ঠান যারা পরিচালনা করেছেন - সুমিত চক্রবর্তী , আনোয়ারুস সালাম রিযওয়ান, সিমন সিকদার, হাসানুর রশিদ উদয়, মো: যোবাইর আলম, কামরুল মজুমদার- এরা সবাই সারাক্ষন ব্যস্ত ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে সাফল্য এনেছেন। সব শেষে সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না।