
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের জেরে স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে পরে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির আশায় সেই ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কমে আসে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.২৩ ডলার বা ১.২৩ শতাংশ বেড়ে ১০১.২৯ ডলারে শেষ হয়। দিনের এক পর্যায়ে এটি প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬১ সেন্ট বা ০.৬৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৪২ ডলারে পৌঁছায়।
তবে সপ্তাহজুড়ে উভয় সূচকই ৬ শতাংশের বেশি দরপতনের মধ্যে ছিল। খবর রয়টার্সের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার এখনও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে আবার নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়ে গেছে।
অ্যাগেইন ক্যাপিটালের অংশীদার জন কিলডাফ বলেন, আমরা এখন এক ধরনের অচলাবস্থায় আছি। হয় আলোচনায় বড় অগ্রগতি হবে, নয়তো আবারও যুদ্ধ তীব্র হবে।
কিলডাফ আরও বলেন, বাজারে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হতে পারে, যার পরবর্তী ধাপে ৩০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির চেষ্টা হবে।
দিনজুড়ে তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যায়। প্রাইস ফিউচারস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, বাজার এখন পুরোপুরি শিরোনামনির্ভর হয়ে গেছে। পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও নতুন করে হামলার মুখে পড়ে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে ইরান সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (৭ মে) দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে শুক্রবার তিনি আবারও ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার আলটিমেটাম দেন।
পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো কত দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারবে, গ্যাসোলিন মৌসুমে মজুদের অবস্থা কী হবে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা কেমন হবে-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরছে এবং বাজার সেটি বিশ্বাস করছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার ঠিক আগে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের তেলবাজার লেনদেন তদন্ত করছে মার্কিন কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন। এসব লেনদেনের বেশিরভাগই ছিল তেলের দাম কমার ওপর বাজি ধরা ‘শর্ট পজিশন’।