
কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। যদিও, সারা দেশের নজর থাকবে পশ্চিমবঙ্গের দিকেই। রাজ্যটিতে মমতার প্রত্যাবর্তন, নাকি ক্ষমতার পালাবদল হবে তা নিয়েই উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়। শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে ব্যবধান বাড়তে থাকে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ভোট গণনা শুরুর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ সময় ১১টা পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে রয়েছে ১৮০ আসনে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ১০৭ আসনে।
তামিলনাড়ুতে প্রাথমিক ভোট গণনায় বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিজয়ের টিভিকে এগিয়ে রয়েছে ১০৬ আসনে। অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতাসীন ডিএমকে ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দলটি এগিয়ে রয়েছে ৭৫ আসনে। এছাড়া এ রাজ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এডিএমকে জোট। তারা ৫০ আসনে এগিয়ে রয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যেও ভোট গণনা চলছে। কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। অন্যদিকে, দক্ষিণের এই রাজ্যে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে মরিয়া হলেও বিজেপি শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে।
এনডিটিভি-র প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউডিএফ ৮৬ আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন এলডিএফ এগিয়ে রয়েছে ৪১ আসনে। আর বিজেপি এগিয়ে রয়েছে মাত্র ১ আসনে।
অন্যদিকে আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার জয়ের পথে এগোতে পারে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বিজেপি ৯৬ আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ২৬ আসনে এগিয়ে রয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভার ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত এনআরসি জোট ১৬ অোসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস জোট ও টিভিকে জোট সমান ৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
সবগুলো রাজ্যে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে জয়–পরাজয়ের গতিপ্রকৃতি জানা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গণনা পুরোপুরি শেষ হতে কোনো কোনো কেন্দ্রে রাতও হয়ে যেতে পারে।