
রাজধানীতে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কুয়াশার ঘনত্ব ও হিমেল হাওয়া। ভোর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ঢাকা শহর। শীত ও কুয়াশার এই দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যায়। কুয়াশার কারণে অনেক স্থানে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে রাস্তায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে চালকদের।
তবে ছুটির দিন হওয়ায় অন্যদিনের তুলনায় রাস্তায় মানুষের চলাচল কিছুটা কম ছিল। তারপরও যাদের বের হতে হয়েছে, তাদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে একাধিক গরম পোশাক গায়েও শীত সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোরে দরকারি কাজে বের হয়েছি। এত ঠান্ডা যে কাঁপুনি থামছে না। কুয়াশার জন্য সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না, রাস্তায় চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মোটরসাইকেল চালক হাসান আলী। তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেলে শীতটা আরও বেশি লাগে। গ্লাভস, জ্যাকেট সব পরেও ঠান্ডা ঠেকানো যাচ্ছে না। কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না, দুর্ঘটনার ভয় থাকে সব সময়।’
রিকশাচালক রহিম মিয়া জানান, ‘সকালে যাত্রী কম। ঠান্ডায় হাত-পা জমে যায়। তবুও সংসারের জন্য বের হইতে হয়। শীতের কারণে শরীর একদম ভালো থাকে না।’
এদিকে আগামী সোমবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে তীব্র শীত অনুভূত হলেও কোনো শৈত্যপ্রবাহ ছিল না। আগামী সপ্তাহের মাঝ থেকে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। তবে ১৭টি জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ।
শৈত্যপ্রবাহ প্রবণ জেলাগুলো হলো- মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলবীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার উপর দিয়ে মুদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গা থেকে তা প্রশমিত হতে পারে।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও রাস্তায় কাজ করা মানুষজন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় অনেকের জন্য এই শীত আরও কঠিন হয়ে উঠছে।