News update
  • 100 CSOs rally against Trump’s trade tactics, urge access to drugs     |     
  • BNP believes in multiparty democracy, not revenge: Moyeen Khan     |     
  • Bangladesh reaffirms commitment to revitalise SAARC process     |     
  • Bangla Academy assures inclusive Ekushey Book Fair From Feb 26     |     
  • 2 former National University VCs face travel ban     |     

ইফতারের পর শরীর ক্লান্ত লাগে কেন?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক স্বাস্থ্য 2026-02-23, 3:49pm

rettewr-dc02daaf638fadc0585ca39ee9e62c1a1771840160.jpg




ইফতারের পর ক্লান্ত বোধ করা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে যখন আমরা একসঙ্গে অনেক ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে যায়। দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে শরীর নিস্তেজ লাগে। পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে পেট ভরে খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন।

সেরোটোনিনের ভূমিকা

ইফতারে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে সেরোটোনিন নামের নিউরোট্রান্সমিটার বেশি উৎপন্ন হতে পারে। এটি ঘুমের চক্র, আবেগ, ক্ষুধা ও হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে সেরোটোনিনের মাত্রা বেড়ে যায়। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের তথ্যানুযায়ী, সেরোটোনিন ঘুমঘুম ভাব সৃষ্টি করে, ফলে ক্লান্তি বাড়তে পারে।

রক্তে শর্করার ওঠানামা

কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার শরীরে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। অতিরিক্ত মিষ্টি বা শর্করাযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলেও একই প্রভাব পড়ে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর ইনসুলিন নিঃসরণ করে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কমাতে কাজ শুরু করে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে, যা শক্তির ঘাটতি ও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, যদি কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে বেশি প্রোটিন গ্রহণ করা হয়—যেমন লাল মাংস, মুরগি, মাছ, শিম, পনির বা বাদাম—তাহলেও শরীর শক্তির জন্য গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রোটিনকে ব্যবহার করতে পারে। এতে রক্তে শর্করার ভারসাম্য পরিবর্তন ঘটে এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

রক্ত সঞ্চালনের পরিবর্তন

রোজার সময় পরিপাকতন্ত্রে রক্তপ্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। কিন্তু খাবার গ্রহণের পর পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্রে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়, যাতে হজম ও পুষ্টি শোষণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। ফলে শরীরের অন্য অঙ্গ—বিশেষ করে মাংসপেশি ও মস্তিষ্কে—রক্তপ্রবাহ কিছুটা কমে যেতে পারে। এর ফলেও অবসাদ ও ঘুমঘুম ভাব তৈরি হয়।

ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার উপায়

ইফতারের পর ক্লান্তির প্রধান কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ। তাই নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস জরুরি।

– অতিরিক্ত তেল,চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

– পরিশোধিত চিনি ও উচ্চমাত্রার চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া ভালো।

– ধীরে ধীরে এবং পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা উচিত।

– ইফতার শুরু করুন একটি খেজুর ও একগ্লাস পানি দিয়ে। এরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান।

রমজানে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া এই সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। রমজানে সুস্থ থাকতে চাই সচেতনতা ও পরিমিত খাবার গ্রহণ।