News update
  • First cruise ship crosses Strait of Hormuz since war began     |     
  • MDBs stress co-op support global stability amid uncertainty     |     
  • PM opens first Hajj flight, visits Ashkona camp     |     
  • River ports asked to hoist cautionary signal No 1     |     
  • Oil prices drop 9% & Wall Street rallies to a record after Iran reopens Hormuz     |     

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ট্রাম্প বললেন ‘আমরা ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি’

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-04-17, 8:48am

ertrwrwerwe-17e79edb8090c8ad45fae3e690a6ed921776394101.jpg




লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে এবং ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তেই সম্মত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইসরাইল ও লেবানন ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৯টা (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৩টা) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

লেবাননে এই পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বিষয়টিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির পথ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসার আগে বৈরুতে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হবে। লেবাননের এই সমঝোতাটি তেহরানের সেই অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ করেছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা মজুত না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটির মেয়াদ ২০ বছরেরও বেশি হতে পারে। এই চুক্তির সম্ভাবনাকে ‘খুবই উজ্জ্বল’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আগামী সপ্তাহান্তেই পরবর্তী বৈঠক হতে পারে। চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হলে তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

তবে তেহরান থেকে আল-জাজিরার রিপোর্টার আলি হাশেম জানিয়েছেন, ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের কাছ থেকে ২০ বছরের জন্য পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার একটি প্রস্তাব পেয়েছিল, যার বিনিময়ে একটি বড় চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতো।

তবে ইরান ২০ বছরের এই শর্তটি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিবর্তে তারা পাল্টা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছিল; কিন্তু বর্তমানে ২০ বছরের সেই আগের প্রস্তাবটি আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে তিনি জানিয়েছেন, লেবাননে আজকের এই যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন ইরানের আটকে থাকা সম্পদগুলো অবমুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে ইরানিরা অনেক বেশি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে পারে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প মনে করছেন, তার আগেই স্থায়ী সমাধান চলে আসবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো কারণে চুক্তি না হয়, তবে পুনরায় লড়াই শুরু হবে।

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বর্তমানে বেশ কার্যকর রয়েছে এবং গত ৭২ ঘণ্টায় ১৪টি জাহাজকে সেখান থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

এদিকে লেবাননে ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলী ফাইয়াদ জানিয়েছেন, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে ‘সতর্কতা ও নজরদারির’ সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের সাফ কথা, ইসরাইল সব ধরনের হামলা বন্ধ করলেই কেবল এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে। অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতিকে বৈরুতের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক চুক্তির’ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হিজবুল্লাহকে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে এবং সিরিয়া সীমান্ত পর্যন্ত একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনারা অবস্থান করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ট্রাম্প এখন আরও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।