News update
  • Woman killed, 4 of her family missing in Meghna boat capsize     |     
  • State can never be strong keeping citizens powerless: PM at UNGA     |     
  • Trump welcomes Xi in Washington as US-China trade truce extended     |     
  • Prevention at heart of govt’s healthcare reform: PM     |     
  • Death toll rises to 11 following typhoon-induced downpours in Japan     |     

খেয়াঘাট আছে, কিন্তু ঘাটে পৌঁছানোর পথ নেই

যোগাযোগ 2026-09-24, 11:40pm

there-is-kheya-ghat-but-no-path-to-get-there-c4ad745f3a3e24a7bdbec2dd13bf40e61790271659.jpg

There is kheya ghat but no path to get there.



পটুয়াখালী: খেয়া ঘাট আছে, নৌকা আছে, কিন্তু ঘাটে পৌঁছানোর পথ নেই। জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে থাকে পথ, আর ভাটায় সেখানে জমে থাকে হাঁটু সমান কাঁদা। বাধ্য হয়ে সেই কাঁদা মাড়িয়েই খেয়ায় উঠতে হয় কয়েক গ্রামের শত শত মানুষকে। কখনো আবার অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে ঘুরে যেতে হয় ঘাটে। বছরের প্রায় সাত মাস ধরে এভাবেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাঝের খেয়াঘাট ব্যবহারকারী মানুষদের।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মিঠাগঞ্জ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য এ ঘাটটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ প্রতিদিন এ পথে যাতায়াত করেন। কিন্তু সংযোগ পথের অভাবে বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারের সময় তাদের ভোগান্তি বাড়ে। জোয়ারের পানি বাড়লে ঘাটের সংযোগ পথ পানিতে ডুবে যায়। ফলে পায়ে হেঁটে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। পানি নেমে গেলে তৈরি হয় আরেক বিড়ম্বনা। কাঁদায় পা আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে বা অন্যের বাড়ির  উপর দিয়ে ঘুরে ঘাটে পৌঁছান। এটিৎটিয়াখালী ইউনিয়নের অংশের ঘাটের  চিত্র। অপর প্রান্ত মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের অংশ তুলনামূলক ভালো হলেও বৃষ্টির সময় সেখানে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাটার সময় কাঁদা মাড়িয়ে খেয়ায় ওঠা যাত্রীদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

টিয়াখালী ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকার দোকানদার আব্দুর রহমান সিকদার বলেন, জোয়ারের সময় এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। ছোটবেলা থেকেই রাস্তার এমন অবস্থা দেখে আসছি। অথচ শিক্ষক, শিক্ষার্থীরাও এই পথ ব্যবহার করেন। রাস্তা উঁচু করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে।

মিঠাগঞ্জ বড় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. নেছার উদ্দিন বলেন, জোয়ারের সময় খেয়া পার হতে হলে কাপড় অনেক ওপরে তুলতে হয়। নারীদের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর। আবার ভাটায় হাঁটুসমান কাঁদা পেরিয়ে ঘাটে উঠতে হয়।

খেয়া যাত্রী মো. হানিফ সিকদার বলেন, দুই পাড়েই সমস্যা রয়েছে। তবে উত্তর পাড়ের অবস্থা বেশি খারাপ। বেড়িবাঁধ থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উঁচু করে নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।

খেয়াঘাটের মাঝি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জোয়ারে ঘাটে আসার পথ  পানিতে ভরে যায়, আর ভাটায় হাঁটুসমান কাঁদা থাকে। মানুষজন ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় যাত্রী না থাকায় সারাদিন বসে থাকতে হয়।

মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপা সিকদার বলেন, তিন বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। কলাপাড়া শহর থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের দুর্ভোগ বেশি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কলাপাড়া শহর থেকে আসেন। এ ছাড়া এলাকায় দুটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষককেও এই খেয়া ব্যবহার করতে হয়। সংযোগ সড়ক উঁচু করা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই খেয়াঘাটে জোয়ারে পানি বেড়ে গেলে তলিয়ে যায়, আবার ভাটায় কাঁদায় ভরে যায়। আসলে সংযোগ সড়কটি মাটি দিয়ে উঁচু করা দরকার। ফান্ডিংয়ের জন্য  এটা আমি সামনের উপজেলা পরিষদের মাসিক মিটিংয়ে উত্থাপন করবো। - গোফরান পলাশ