News update
  • Rare ‘Lynd Surgeonfish’ caught in fishing nets in Bay of Bengal     |     
  • 51 dead in Flood, landslides; over 1,000 shelters open in 7 dists     |     
  • JS recalls Jamiruddin Sircar's illustrious career, pays tribute     |     
  • Rescued Royal Bengal Tigress released after 6 months of treatment     |     
  • Former Speaker Jamir Uddin Sircar passes away      |     

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়লো বিরল ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’

মৎস 2026-07-13, 12:13am

rare-lynd-surgeonfish-caught-in-kalapara-6fe76378c1630a0441f6bc488264789d1783880004.jpg

Rare Lynd Surgeonfish caught in Kalapara



পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এবার জেলের জালে ধরা পড়লো বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা আকর্ষনীয় এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত।

রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘সিফাত ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। 

এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামক একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় আলাদা করে যত্ন করে তীরে নিয়ে এসেছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইনুল ও মৎস্যজীবী মো. হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের মাছ দেখলেও এমন অদ্ভুত সুন্দর মাছ সচরাচর চোখে পড়ে না। খবর পেয়ে কৌতূহল থেকেই তারা এটি দেখতে এসেছেন।

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। সাধারণ বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদাও নেই। তবে এর অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে মাছটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।’

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকানথুরাস লিনিয়েটাস। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত। এরা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উষ্ণ সামুদ্রিক এলাকার প্রবাল প্রাচীর (কোররাল রিফ) ও পাথুরে এলাকায় বাস করে। এ ধরনের মাছ মূলত সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে এবং সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। এদের লেজের গোড়ায় অত্যন্ত ধারালো একটি কাঁটা থাকে, যা দিয়ে এরা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের লেজের গোড়ার কাঁটাটি বেশ বিপজ্জনক। আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে এদের দেখা মেলে।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর ধরা না পড়লেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পরিবেশে এদের বিচরণ রয়েছে। তবে মাছটির লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকা উচিত।’ - গোফরান পলাশ