
ইংরেজি ২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বছরের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা সোনার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭২ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার দাম কিছুটা কমলেও নতুন বছরের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহে আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে সোনার বাজার। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাই এই দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে।
২০২৫ সালে এই মূল্যবান ধাতুর বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৬৪ শতাংশ, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর আভাস এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকেই ঝুঁকছেন। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ২০২৬ সাল শুরু করল সোনা।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও দেখা গেছে আকাশচুম্বী বৃদ্ধি। শনিবার স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ১৪৭ শতাংশ, যা প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে সোনাকেও হার মানিয়েছে। শিল্প কারখানায় চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে রুপার বাজারে এই নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালেও মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের বাজারে খুচরা চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।