News update
  • EC Plans First-Phase Elections in 1,050 Union Parishads     |     
  • Rohingya crisis now a security concern for Bangladesh: Shama     |     
  • Hasina Is a Convict, Legal Steps Underway to Bring Her Back     |     
  • Nearly 300 families perish in road crashes in 6 years 10 months: RSF     |     
  • Earth Gets a Tiny New Mini-Moon Until December     |     

গাজায় আকস্মিক বন্যা : তীব্র শীত ও বৃষ্টিতে আশ্রয়হীন হাজার হাজার মানুষ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিপর্যয় 2026-11-08, 6:40pm

gaajaa-ba9f832a0e71702076436be7e77235f91794141617.jpg




আকস্মিক বন্যায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

উত্তর গাজার শহর থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খলিল জানান, ফিলিস্তিনিদের বাধ্য হয়ে যেসব অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করতে হয়, তা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের তোড়ে পরিবারগুলোর বহু কষ্টে তৈরি করা আশ্রয়গুলোর কাপড় ও কাঠামো উড়ে গেছে। সাংবাদিক জানান, তিনি ভেজা তোশক, বালিশ ও কাপড় দেখতে পেয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন সব জায়গায় বসবাস করছেন, যা নতুন করে প্লাবিত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টি ও ঝড়ে ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। বহু তাঁবু ধসে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক সংকট আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই উপত্যকায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ত্রাণ সরবরাহের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আলজাজিরার অপর সাংবাদিক আশরাফ আবু আমরা জানান, যেসব বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে, তারা গত শনিবার সকাল থেকে কোনো ধরনের খাদ্য সহায়তা পায়নি। ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ জানিয়েছেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ অত্যন্ত ‘ভয়াবহ পরিস্থিতিতে’ জীবনযাপন করছেন এবং অতিপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহের জন্য তিনি আরও তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজার সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই ঝড়ে আনুমানিক ৩০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে লড়াই করতে হচ্ছে। 

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা অন্তত দেড় হাজার জরুরি কল বা সাহায্যের আবেদন পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে ২ হাজারেরও বেশি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থায় অন্তত ৩ লাখ নতুন তাঁবু জরুরিভাবে প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৬১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক হামলায় গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সহায়তা সামগ্রী, আশ্রয় তৈরির উপকরণ ও পুনর্গঠন সামগ্রীর ওপর অব্যাহত নিষেধাজ্ঞার কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।