
টানা পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। সড়ক তলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই সাথে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং ভেঙে যাচ্ছে হালদা নদী ও ধুরুং খালের বেড়িবাঁধ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফটিকছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ এবং স্থানীয় কৃষকেরা।
বন্যার পানিতে উপজেলার পাইন্দং ফকিরাচাঁন এলাকা, রোসাংগিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, সমিতিরহাট, সুয়াবিল, বক্তপুর এবং হারুয়ালছড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার শত শত একর আবাদি জমি এখন পানির নিচে। বিশেষ করে এই মৌসুমের আমন চাষের বীজতলা ও বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।
টানা বর্ষণে উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের বিভিন্ন স্থান এখন হাঁটু সমান পানির নিচে। ফলে এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ফটিকছড়ির বুক চিরে বয়ে যাওয়া হালদা নদী এবং ধুরুং খালের বেশ কিছু অংশের বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত এই ভাঙন কবলিত এলাকা মেরামত করা না হলে পুরো উপজেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, আমরা নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং নদী-খালের বাঁধ পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকার কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দুর্গতদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।