News update
  • Prioritise Multilateralism to Resolve Iran War Humanitarian Crisis     |     
  • From drought to deluge: ‘Super’ El Niño’s expanding reach     |     
  • Messi Bids Farewell to Argentina After 21-Year Career     |     
  • Toyota Tsusho briefs PM on plan to manufacture vehicles in Bangladesh     |     

মেসির বিদায়ী মঞ্চে বিশ্বকাপজয়ীদের মিলনমেলা

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ফুটবল 2026-10-07, 1:39pm

messi_1_0-603fec0b4a9b9050f453598f62db3a531791358772.jpg




চোখের পানি আর ভালোবাসার স্রোতে চিরচেনা আঙিনাকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিসেলেস্তে মহাতারকা কীভাবে বিদায় জানালেন, তার সাক্ষী হলো বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। ৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ‘এসো, এসো... আমার সাথে গাও...’ গানে মুখরিত পুরো স্টেডিয়াম এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। আনন্দ আর বুকভাঙা কষ্টের এই মিশ্র অনুভূতিতেই শেষ হলো ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) পরম যত্নে মেসিকে রাজি করিয়েছিল মাঠে নেমে একটি উপযুক্ত বিদায় নেওয়ার জন্য। ভক্তদের উন্মাদনা ছিল আকাশছোঁয়া—ম্যাচের টিকিট ছাড়ার মাত্র ৯০ মিনিটেই সব শেষ হয়ে যায়! টিকিটের দাম পুনঃবিক্রির সাইটগুলোতে ছাড়িয়ে যায় আড়াই হাজার ডলার। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই রোমাঞ্চের কমতি ছিল না। বুধবার ভোরে টিম বাসে করে মাঠে যাওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ প্রিয় তারকাকে এক পলক দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মানুষের উপচেপড়া ভালোবাসা দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি, তার চোখ ভিজে উঠেছিল অশ্রুতে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পথ ফাঁকা করার চেষ্টা করলেও অনেকেই প্রিয় খেলোয়াড়কে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসেন রাস্তায়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে দল স্টেডিয়ামে পৌঁছায়।

মাঠে নামার পর শুরু হয় চোখ জুড়ানো সব আয়োজন। মাঠকর্মীরা মাঠে বিছিয়ে দেন সুবিশাল এক ১০ নম্বর জার্সি, যেখানে মেসির নামের বদলে লেখা ছিল ‘গ্রেসিয়াস’ বা ধন্যবাদ। এই দৃশ্য দেখে দর্শকরা স্লোগানে স্লোগানে পুরো স্টেডিয়াম মাতিয়ে তোলেন। জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও এবং চিরোকে পাশে নিয়ে কেঁদে ফেলেন মেসি। আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামা এই ম্যাচে মেসির সম্মানে ঠিক দশম মিনিটে খেলা থামান রেফারি। টানা দুই মিনিট দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে এবং ‘ওলে ওলে মেসি’ ধ্বনিতে তাকে শ্রদ্ধা জানান সবাই। মাঠে থাকা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রাও এসে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

জাতীয় দলের এই শেষ ম্যাচটাকে রূপকথার মতো রাঙিয়ে দেন এলএমটেন। এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে নিজের বিদায়কে করেন আরও বেশি স্মরণীয়। ম্যাচ শেষে ড্রোন শোয়ের মাধ্যমে আকাশে ভেসে ওঠে ‘গ্রেসিয়াস লিও’ বার্তাটি। গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তির জনপ্রিয় গান ‘ব্রিনদিস’-এর সুরে হেসে ওঠেন মেসি। সবশেষে মেসির বিদায়ী বক্তব্যে আবেগের এক বিস্ফোরণ ঘটে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে-বাতাসে।