
তীব্র সমালোচনা ও সদস্য দেশগুলোর বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফা তাদের নতুন একটি বাণিজ্যিক ইউনিটের প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। এই ইউনিটের অধীনে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। খবর আল জাজিরার।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশের পরই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তীব্র আপত্তি জানায়। উয়েফা অভিযোগ করে, ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই গোপনে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সংস্থাটি এটিকে ফুটবলের ‘আত্মা বিক্রির চেষ্টা’ বলেও মন্তব্য করে এবং ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিরোধিতার মুখে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে বলেন, বিভিন্ন পক্ষের মতামত পর্যালোচনার পর স্পষ্ট হয়েছে যে এই প্রকল্পটি ফুটবল পরিবারে বিভাজন তৈরি করেছে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে প্রস্তাবটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
এর আগে শুক্রবারই ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করে পরিকল্পনাটিকে ‘ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি’ বলে অভিহিত করেন। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও অভিযোগ করেন, এই পরিকল্পনা ছিল মূলত একজন ব্যক্তির উদ্যোগ এবং এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম মন্তব্য করেছেন, ইনফান্তিনো ফিফার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নন।
এই ঘটনার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা হয়।
আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ এই বিতর্কের পর তার নেতৃত্ব ও পুনর্নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ইতোমধ্যে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।