
৩ নভেম্বর আইওয়া অঙ্গরাজ্যের বেনেট শহরে অবস্থিত ‘বেনেট কমিউনিটি সেন্টার আমেরিকান লিজিয়ন ১০৪’-এর একটি ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটার তার ব্যালট পূরণ করছেন। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি আসনে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। ওহাইও, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শুরুর পর এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জর্জিয়ার এক রিপাবলিকান কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে একাধিক রিপাবলিকান প্রচারশিবির উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, ডেমোক্র্যাটদের হারানোর মতো পর্যাপ্ত ভোট নাও পেতে পারেন তারা।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ পাবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও চাপে পড়বেন ট্রাম্প।
এবার প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদে নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের তিনটি আসন বাড়াতে হবে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন নিট চারটি আসন।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, দেশ বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন। সেখানে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে।
কানসাস, টেক্সাস, আইওয়া, ওহাইও ও আলাস্কার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। অন্যদিকে মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নির্বাচনি সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের ২৪১ এবং রিপাবলিকানদের ১৯৪টি আসন পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ৫২-৪৮ ব্যবধানে জয়ের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়।
এ পর্যন্ত যারা জয়ী
জর্জিয়া থেকে সিনেটে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়েছেন তিনি। নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট আসনও ধরে রেখেছেন ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস।
প্রতিনিধি পরিষদে জর্জিয়ার স্যানফোর্ড বিশপ এবং ওহাইওর শন্টেল ব্রাউন পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে কেনটাকির জেমস কোমার ও ফ্লোরিডার কার্লোস গিমেনেজ জয় পেয়েছেন।
নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন ট্রাম্প?
রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ট্রাম্প ফল মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি বারবার ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের অভিবাসননীতি, ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্কের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ভোট গণনার যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ডানপন্থী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। তবে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব ব্যালট গণনা করা হবে।