
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত ও লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মোট ৬১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দুদিন পর শূন্যরেখার কাছাকাছি থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে ২৮ জন এবং লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্টের শূন্যরেখা থেকে ৩৩ জনকে বিএসএফ সরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সূত্র।
শনিবার (৬ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত থেকে ২৮ জনকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।
লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বর্তমানে সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করা ওই ২৮ জনের কোনো উপস্থিতি বা চলাচল আর পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আমাদের ধারণা, গতকাল শুক্রবার রাতের কোনো একসময় বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার (৩ জুন) দিনগত রাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-এস সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। এ সময় বাঙ্গাবাড়ি বিওপির বিজিবি টহলদল তাদের বাধা দিলে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেন।
বিজিবির বাঙ্গাবাড়ি সূত্র জানায়, ওই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু ছিল। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার এবং পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবি জানায়, বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনায় ঘটনাটি স্বীকার করে। বৈঠকে বিএসএফ জানায়, বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে গতকাল সকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিজিবিকে জানানো হয়নি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, বিজিবি সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে আমাদের নজরদারি ও সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে বিএসএফ পুশইনের জন্য আনা সবাইকে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে লালমনিরহাট বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার ভোরে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্টে মোট ৩৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন ছিলেন।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে দিনভর তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তারকাঁটার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
সেদিন রাতেই আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
এরপর আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেয় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে ওই ব্যক্তিদের তারকাঁটার ভেতরে প্রবেশ করিয়ে পরে একটি পিকআপে করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানায়, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইউএনবি