
রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে ঘষা লেগে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ১০টি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০টি দরজার মধ্যে ৬টি দরজা ট্রেন থেকে ভেঙে পুকুরে এবং রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। তবে এ ঘটনায় ট্রেনের যাত্রী কিংবা আশপাশের কেউ হতাহত হয়নি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে চন্দনাইশ খানহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রব্বানী।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পটিয়া স্টেশন অতিক্রম করে চন্দনাইশ এলাকার স্টেশনের কাছে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ট্রেনটির শোভন চেয়ার কোচের অন্তত ছয়টি দরজা ভেঙে রেললাইনে আশপাশে এবং পুকুরে পড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ট্রেনটি ঢাকা থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে আসে এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মো. গোলাম রব্বানী বলেন, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে ২ টা ৪০ মিনিটের দিকে পৌছানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই ট্রেন সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার স্টেশন পৌঁছায়। কক্সবাজার পৌছানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত দরজাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আংশিক মেরামত করা হয় এবং অতিরিক্ত সংরক্ষিত দুটি কোচ যুক্ত করে ট্রেনটি পুনরায় চলাচল শুরু করে। দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনটির নির্ধারিত সময়সূচিতে বিলম্ব হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত হিসাব নির্ধারণ করবে বলেও জানান স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রব্বানী।
কক্সবাজার কেরেজ ডিপোর সহকারী উপ প্রকৌশলী (রেল যান পরীক্ষক) আব্দুল জলিল বলেন, দুর্ঘটনায় পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটির ১০ কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬টি কোচের দরজা ছিটকে পড়লেও বাকি ৪টির নানা অংশ ভেঙে গেছে। কোচগুলো কোরিয়ান, ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ সোমবার নির্ধারণ করে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আকারে পাঠানো হবে।