News update
  • Seven killed in truck-pickup crash in Sylhet     |     
  • Borrowing from central bank ‘suicidal’ for economy: Dr. Fahmida     |     
  • Fuel Queues Ease As Supply Rises, Demand Falls     |     
  • PM says govt working to reopen closed factories     |     
  • 7-year Sukuk worth Tk 5,900cr planned for rural bridge project     |     

শনিবার দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্রিকেট 2026-05-01, 3:27pm

rtyeytry54-6c020797a03de800cba5668f777c82931777627630.jpg




তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামীকাল (শনিবার) থেকে দেশব্যপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (১ মে) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি সারাদেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে উপস্থিত হাজারও প্রতিযোগীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই নতুন যাত্রার শুভসূচনা করবেন তিনি। 

আশির দশকের বহুল জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র সফলতার ধারাবাহিকতায় আগামী দিনের খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে দেখা হচ্ছে। 

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে ১২-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র মূল উদ্দেশ্য। 

ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। একইসঙ্গে দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ বৃদ্ধিতেও খেলাধুলা সহায়তা করে। 

মেগা এই ক্রীড়া আয়োজনে ৮টি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, এ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভা প্রমানের সুযোগ পাবে। রেজিষ্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করেছে। 

এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর ও ৪৪,১৩৩ জন কিশোরী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩২৪ জন আবেদনকারী রয়েছে সিলেট জেলায়। এরপরই ৯৩০৫ জন চট্টগ্রাম ও ৮৮৯৬ জন রয়েছে ঢাকায়। উপজেলা পর্যায়ে দল গঠনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আগামী ১৩-২২ মে পর্যন্ত চলবে অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের লড়াই।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সার্বিক দিক সম্পর্কে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি কাঠামোর মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে আনতে ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড পর্যায় থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে সেরা প্রতিভারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে। 

তিনি আরও বলেন, পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোন মেধা অবমূল্যায়িত না হয়। 

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে প্রতিটি পর্যায়ে নক আউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ীয় সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে ফলাফল।  

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি প্রদান করা হবে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হবে সনদপত্র। 

জাতীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও নিজেকে পরিণত করার সুযোগ থাকবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগও এর মাধ্যমে তৈরি হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তিনটি বিশেষ প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিতদের বিকেএসপিতে ভর্তি এবং বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ঢাকার ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং স্বজনপ্রীতি রুখতে প্রতিমন্ত্রী নিজে একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।

অতীতের পরিকল্পনাহীন অর্থ ব্যয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এখন হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রতিভা বাছাই তদারকি করব।