
রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য মাল্টিন্যাশনাল ইয়ুথ জিওগ্রাফি অলিম্পিয়াড (মাই-জিও) ২০২৬-এ অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নয় সদস্যের প্রতিনিধিদল। আগামী ২৪ থেকে ৩১ অক্টোবর রাশিয়ার সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পাঁচ শিক্ষার্থী, তিন দলনেতা ও একজন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন।
১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রাকৃতিক ও মানবীয় ভূগোল, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং টেকসই আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা যাচাই করা হবে।
দলীয় বাছাইয়ে নির্বাচিত পাঁচ শিক্ষার্থী
জিরো কম্পিটিশনস লিমিটেডের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকার রাশিয়ান হাউসে অনুষ্ঠিত দলীয় বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচিত পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের মিনহাজুল ইসলাম তাহমিদ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শাহরিয়ার নূর, রাজশাহীর অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. তাওসিকুল ইসলাম, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের আরিফা আতিক মীম এবং নটর ডেম কলেজের তানভীর সাদাত।
দলনেতা হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. আয়মান মাহমুদ ও তাসিন মোহাম্মদ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেরদৌস আহমেদ। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আহনাফ তাহমিদ উদ্দিন দলীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যাবেন।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সমন্বয় করছে জিরো কম্পিটিশনস লিমিটেড ও সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস নেটওয়ার্ক (এসএলএসএন)। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে ঢাকার রাশিয়ান হাউস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
তিন পর্বে হবে প্রতিযোগিতা
মাই-জিও ২০২৬-এর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে তাত্ত্বিক, মাল্টিমিডিয়া ও ব্যবহারিক—এই তিন পর্বে। তাত্ত্বিক পর্বে শিক্ষার্থীদের ভৌগোলিক জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের দক্ষতা যাচাই করা হবে।
মাল্টিমিডিয়া পর্বে মানচিত্র, স্যাটেলাইট চিত্র ও পরিসংখ্যানভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করতে হবে। ব্যবহারিক পর্বে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, মানচিত্র তৈরি এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে প্রস্তাবনা তৈরির মতো কাজ থাকবে। প্রতিযোগিতার ভাষা হবে ইংরেজি।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস), রিমোট সেন্সিং, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষামূলক অধিবেশন, বক্তৃতা ও কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারবেন তাঁরা।
প্রতি বছর হবে বাংলাদেশ ভূগোল অলিম্পিয়াড
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশে ভূগোল ও পৃথিবীবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে প্রতি বছর বাংলাদেশ ভূগোল অলিম্পিয়াড (বিজিও) আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ভূগোল, ভূতত্ত্ব এবং পৃথিবীবিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার পথও সম্প্রসারিত হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিজিওর পরবর্তী আয়োজন, নিবন্ধন ও অন্যান্য ঘোষণা অলিম্পিয়াডের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ এবং জিরো কম্পিটিশনস ও এসএলএসএনের যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
মাই-জিও ২০২৬-এ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।