
ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের কাছে আফগান নাগরিক দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যকে গুলি করার অভিযোগ ওঠার একদিন পর ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থগিত করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল করার সুযোগ করে দিতে আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব।’
হুমকি দিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে দেয়া ‘লাখ লাখ’ অভিবাসনের অনুমোদন বাতিল করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত সম্পদ নন, এমন যে কাউকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জনসাধারণের অভিযোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পশ্চিমা সভ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলে বিবেচিত যেকোনো বিদেশি নাগরিককে নির্বাসিত করা উচিত।
তবে ট্রাম্প তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলে কাদের বুঝিয়েছেন, সেটি পরিষ্কার করেননি।
‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দটি কীভাবে এসেছে?
প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিশ্ব ধারণাটি এসেছে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে। তখন বিশ্ব মূলত দুটি শক্তিশালী শিবিরে বিভক্ত ছিল—যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত পশ্চিমা ব্লক এবং কমিউনিস্ট সমর্থিত পূর্ব ব্লক। কিন্তু এই দুই ব্লকের বাইরেও অবস্থান ছিল অনেক দেশের। সেগুলোকে সংজ্ঞায়িত করতেই প্রথম প্রয়োগ ঘটেছিল তৃতীয় বিশ্ব শব্দটি। পরবর্তীকালে এই শব্দটি প্রায়ই অপেক্ষাকৃত দরিদ্র বা ‘অনুন্নত’ দেশ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এখন এটি ব্যাপকভাবে সেকেলে বা অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে, প্রথম বিশ্ব বলতে বোঝানো হতো যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত গণতান্ত্রিক ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে। দ্বিতীয় বিশ্ব বলতে বোঝানো হতো শ্রমিক–কৃষক নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক–কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোকে, আর তৃতীয় বিশ্ব বলতে সেই সব দেশকে বোঝানো হতো, যারা কোনো ব্লকের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
প্রথম বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। পশ্চিমা প্রভাবের কারণে কিছু আফ্রিকান অঞ্চলও এই তালিকায় ধরা হতো—যেমন স্পেনের অধীনে পশ্চিম সাহারা, বর্ণবাদী শাসনামলের দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সাউথ ওয়েস্ট আফ্রিকা (নামিবিয়া)। অন্যদিকে অ্যাঙ্গোলা ও মোজাম্বিক ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পর্তুগিজ শাসনে ছিল, পরে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোও কার্যত প্রথম বিশ্ব হিসেবেই বিবেচিত ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ও পূর্ব ইউরোপ যেমন, পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া এবং বলকান অঞ্চল—এবং চীনসমর্থিত এশিয়ার কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলো যেমন, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া। এছাড়া তৃতীয় বিশ্ব ছিল বাকি সব দেশ—সেগুলো মূলত আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অপেক্ষাকৃত অনুন্নত কৃষিপ্রধান দেশগুলো।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি