
Pharmacy closed for goving medicine to a disabled person free of costs in Kalapara
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রতিবন্ধী ভিক্ষুককে বিনামূল্যে ঔষধ দেয়ায় 'প্রগতি মেডিকেল হল' নামের একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। এছাড়া ন্যাশনাল ফার্মেসী নামের অপর একটি ফার্মেসী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। শুক্রবার এ বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ভোক্তাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় জড়িতদের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ওঠে। তবে ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের দাবি ইনভয়েস ছাড়া নিম্নমানের ঔষধ বিক্রির অভিযোগে সমিতির আইন অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, কারফিউ, হরতাল কিংবা করোনার সময়েও কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলাকালীন সময়ও এ ফার্মেসিটি বন্ধ হতে দেখা যায়নি। অথচ শুক্রবার সকাল থেকে দূর-দূরান্ত থেকে নৌযোগে আসা রোগীদের স্বজনরা ন্যায্য মূল্যের এ ফার্মেসিটি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন। এবং ফার্মেসিটি বন্ধ থাকার বিষয়টি তারা জানতে চেষ্টা করেন।
প্রগতি মেডিকেল হলের সুদীপ পাল বলেন, 'একজন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ঔষধ কিনতে এলে তার ঔষধের দাম ৩০০ টাকা দেখে তিনি ঔষধ না নিয়েই যাচ্ছিলেন। তার কাছে কত টাকা আছে জানতে চাইলে তিনি ১০০ টাকার কথা বলেন। তাই মানবিক বিবেচনায় (Previncip compani. Primrol450ml.Mrp350) ভিটামিন এ সিরাপটি মাত্র ১শত টাকায় ওই অসহায় মানুষকে প্রদান করি। এতে আমাদের দীর্ঘ দিনের পুরোনো ফার্মেসি বন্ধ করে দেয় কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগ এ্যাসোশিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।'
ন্যাশনাল ফার্মেসির স্বত্ত্বাধিকগরীু মো. কবির হোসেন দুলাল বলেন, গত তিন দিন আগে আমি একজন ভোক্তার কাছে 'ফাস্ট ভেট' নামের একটি ঔষধ ২০০ টাকায় বিক্রি করি, ঔষধটির এমআরপি ছিল ৩০০ টাকা। কম দামে বিক্রি করার অপরাধে আমাকে ফার্মেসি বন্ধের হুমকি দেয়। অধিক মুনাফা লাভের আশায় তারা ঔষধের এমআরপি মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করতে চায়। কিন্তু আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি ৫৫ বছরের পুরনো। বাবার কাছ থেকেই আমি এটি পেয়েছি। কম দামে ঔষুধ বিক্রির জন্য অনেক গরিব মানুষ আমাদের কাছে আসে।'
এদিকে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শত শত মানুষ। নেটিজনরা বলছেন, মানবিক কাজে যদি দোকানিকে মাসুল দিতে হয় তাহলে এর বিরূপ প্রভাবে আর কেউ সহায়তার হাত বাড়াবে না।
এ বিষয় কলাপাড়া কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগ এ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি এবং কৃষক লীগের পৌর শাখার সভাপতি মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, 'প্রগতি মেডিকেল হল ঢাকার মিডফোর্ড থেকে নিম্নমানের ঔষধ কিনে কম দামে বিক্রি করায় ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি একদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে।'
মেসার্স ফাতেমা মেডিকেল হলের সত্বাধিকারী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, 'কিছুদিন পূর্বে আমার কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে এই সমিতি কর্তৃপক্ষ। মূলত মোড়কে যেই মূল্য লেখা (এমআরপি) ঔষধ গুলো ক্রেতাদের কাছে একটু কম দামে বিক্রি করার জন্য সমিতির কাছে বহুবার অনুরোধ করা হলে তারা কোনক্রমেই ছাড় দিতে রাজি নন।'
এছাড়াও একাধিক ওষুধ দোকানীর অভিযোগ, সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে এক ধরনের জুলুম পরিচালনা করা হচ্ছে। এদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তাই সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অনেক দোকানী ও ভুক্তভোগীরা।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মর্তা ও পৌর প্রশাসক কাউছার হামিদ বলেন, কোন সমিতি বা সংগঠন কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেনা। আর তার দোকানের ঔষধ সে কম দামে বিক্রি করবে না ফ্রীতে দিবে সেটা তার ব্যপার। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।' - গোফরান পলাশ